Sunday, September 18, 2011

২০২১ সালের মধ্যে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি


২০২১ সালের মধ্যে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দ্রব্যমূল্য হ্রাস ও মহামন্দা রোধ, দুনীতি দমন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে আওয়ামী লীগ দিন বদলের সনদ নামে ২৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে৷ ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস কঠোর হস্তে দমন করার অঙ্গিকার করা হয়েছে৷ ২০২১ সালকে টার্গেট করে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে৷ এ প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালে অর্থাৎ ৪ বছরের মধ্যে দেশকে পুনরায় খাদ্যে আত্মনির্ভরশীল করা, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, বেকারত্বের হার ৪০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, আগামী ৫ বছরে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ৪৫ শতাংশ থেকে ২৫-এ নামিয়ে আনা, ৱাতক পর্যন্ত শিক্ষাকে সবার জন্য অবৈতনিক করা, দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া৷
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোট ও ভাতের অধিকার দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার-এই শ্লোগানের ভিত্তিতে রচিত এ ইশতেহার ভিশন-২০২১ নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী যারা প্রথম ভোটার হয়েছেন তাদেরকে উৎসর্গ করেন৷ 
ইশতেহারে গভীর সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলে উন্নয়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নেয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করা হয়৷ চাল, ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা, দ্রব্য মূল্য সন্ত্রাসী সিণ্ডিকেট ভেঙে দেয়া, বিশ্ব-মন্দা মোকাবিলায় টাস্ক ফোর্স গঠন এবং তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার কথা ইশতেহারে বলা হয়েছে৷
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে৷ আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হবে ২০ হাজার মেগাওয়াট৷ ৩ বছর মেয়াদি ক্র্যাস প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করে ২০১৩ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০১৫ সালের মধ্যে ৮ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে৷ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করাসহ বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার, আইনের শাসন ও নাগরিক মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করা হবে৷ শিক্ষা, বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা, নতুন শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করে শিক্ষা-ব্যবস্থা আধুনিক, ২০১৩ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা এবং ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করা হবে৷ ঢাকায় আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, পদ্মা সেতু নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সড়ক, রেল ও নৌ পথের আধুনিকায়ন করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে৷ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতি সত্তা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ ও তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করা হবে৷ সার্ক, বিমসটেকসহ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং ইসলামিক উম্মাহর সংহতি ও ইসলামি দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা উন্নততর করা হবে৷ সমমর্যাদার ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’-এই নীতির ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা হবে৷
সমগ্র জাতির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করে নতুন প্রজন্মকে সুন্দর ও সফল ভবিষ্যৎ উপহার দেয়ার অঙ্গীকার করেন শেখ হাসিনা

Saturday, September 3, 2011

What is Rajakar?


What is Rajakar?


Razakar (Bengali: রাজাকার) was the name given to a paramilitary force organized by the Pakistan Army during the Bangladesh Liberation Warin 1971. The word razakar, originating from Persian, literally means "volunteer". The Razakar force was composed of mostly pro-Pakistani Bengalis and Urdu-speaking migrants living in erstwhile East Pakistan (now Bangladesh). Initially, the force was under the command of local pro-Pakistani committees, but through the East Pakistan Razakar Ordinance (promulgated by General Tikka Khan on 1 June 1971) and a Ministry of Defence ordinance (promulgated 7 September 1971), Razakars were recognized as members of the Pakistan Army. Razakars were allegedly associated with many of the atrocities committed by the Pakistan Army during the 9-month war (see 1971 Bangladesh atrocities). Creation In 1971, after military cracksdown, Razakar force was created under Pakistan Army Act Sub-Section 1. Under Sub-Section 2 and 5 two other paramilitary forces Al-Badr and Al-Shams were created as well in 1971. The Pakistan government published gazette of these in Spetember,1971 from Rawalpindi's Army Headquarter. After gazette the Razakars started excuting and eliminating pro-independence Bangladeshis. Later on, Pakistani President published notification, and Razakars were receiving monthly salary and ration ( food supplies). Major General Jamsid was head of Razakar force. Al-Badr force was created in October and started operation in November. Shanti Komiti ( Peace Committee ) was created politically where Golam Azam and Khza Khairuddin was in charge of peace committee [1]These Pakistani offsprings were organized into Brigades of around 3-4000 volunteers , mainly armed with Light Infantry weapons provided by the Pakistani Army. Each Razakar Brigade was attached as an auxiliary to two Pakistani Regular Army Brigades, and their main function was to arrest and detain nationalist Bengali suspects. Usually such suspects were often tortured to death in custody. The Razakars were trained in the conventional army fashion by the Pakistan Army. Following the liberation of East Pakistan as the independent country of Bangladesh, most of the leading Razakars, allegedly includingGhulam Azam, fled to Pakistan (previously West Pakistan). Ghulam Azam maintains that he went to Pakistan to participate in the Annual General Meeting of his organization, the Jamaat-e-Islami, but he was forced to remain overseas until General Ziaur Rahman allowed him to return to Bangladesh. Many of the lower ranking Razakars who remained in Bangladesh were killed in the course of reprisals immediately after the end of fighting while as many as 36,000 were imprisoned. Of the latter many were later freed mainly because of pressure from US and China who backed Pakistan in the war, and because Pakistan was holding 200,000 Bengali speaking military and civilian personnel who were stranded in West Pakistan during the war.[2] After the restoration of democracy in 1992, an unofficial and self-proclaimed “People's Court” (Bengali: গণআদালত Gônoadalot) “sentenced” Ghulam Azam and his ten accomplices to death for war crimes and crimes against humanity. However, as the Islamist Jamaat-e-Islami party was already a part of the ruling alliance in Bangladesh, the “verdict” was ignored. Moreover, the then Bangladesh Nationalist Party (BNP) government re-granted Bangladeshi nationality to Ghulam Azam, as it had been taken from him after the war. Subdued during the rule ofAwami League from 1996-2001, Jamaat-e-Islami returned in full force after the next election in October 2001 in which a four party alliance led by BNP won a landslide victory. The new leader of Jamaat after Ghulam Azam’s retirement, Motiur Rahman Nizami, a Razakar and among the ten people tried by the Gônoadalot, became an influential minister in the government. The word রাজাকার razakar today carries the meaning "traitor" in common Bangladeshi Bengali parlance, similar to the usage of the word Quisling after the Second World War. TAREK ZIA or Tareq rahman, Father- Sector Commander, President Major Ziaur Rahman, Mother- Mrs Khaleda zia uneducated, uncapable prime minister of 20/21th century, the step wife of Mossaddek Ali Falu. Brother- Arafat Rahman koko; one of the beneficiary of Khaleda govt and nominated best addicted Young last five years in a row. Friends- Fokinnirput Gias Al Mamun, thieft of the year 2002/2006 and Bisisto Modkor, Juary, Ganzoti,Hiroinchi. chandabaaz tareikka 
বিএনপি, দলটির নেত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া এবং অন্য নেত্রী-নেতাদের আইনের শাসনের বুলি হলো- বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার। কথায় কথায় তারা আওয়ামী লীগকে আইনের শাসন 'অমান্যকারী' গণতন্ত্র 'হরণকারী' আরও কত কত অসুস্থ শব্দ ব্যবহার করে দলটিকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে চলেছে গত তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু সময়ের কি প্রতিশোধ, আজ তারাই আইনের শাসন মানছে না। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার দায়ের করা মামলায়ই হাইকোর্ট রায় দিল তাকে এক মাসের মধ্যে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। তখনই শুরু হলো মাতম_ হায় তাল গাছ আমার, হায় তালগাছ আমার। কেন এত মাতম? বস্তুত ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটি হাত ছাড়া হয়ে গেলে তথাকথিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দলটির বহুদলীয় গণতন্ত্র বা আইনের শাসনের ওপর থেকে যে মিলিটারি গিলাপটি সরে যাবে। নইলে সরকারের দেয়া গুলশানে প্রায় ৭০/৮০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি থাকতে কেন তিনি ক্যান্টনমেন্টে বাড়ি ছাড়তে চাইছেন না? অথচ এই ক্যান্টনমেন্টে বসবাসের কারণে তাঁর দলীয় নেতা-কমর্ী-সমর্থকরা তার সাথে দেখা করতে পারেন না। কাজেই এ বাড়ি ছেড়ে গুলশানের বাড়িতে গেলে নেতা-কমর্ীরা তার সাথে সহজেই দেখা করতে পারবেন। কোন বাধার সম্মুখীন হবেন না। আমি নিজেও মনে করি বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাড়িতে এলে তিনি আর জনবিচ্ছিন্ন ক্যান্টনমেন্টবাসিনী থাকবেন না বরং জনগণের কাছাকাছি চলে আসবেন। সীমাহীন সম্পদের লোভ থাকলে ভিন্ন কথা। অবশ্য দুনিয়াতেও আলস্নাহ পাক-এর বিচার আছে। যাকে আমরা প্রকৃতির প্রতিশোধ মনে করি। মনে পড়ে বাংলাদেশ যখন ক্রিকেটে টেস্ট স্ট্যাটাস-এর জন্য আবেদন করেছিল তখন যে দেশটি সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছিল, বলেছিল 'বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের অযোগ্য, আমাদের চরমভাবে অবজ্ঞা করেছিল, সেই নিউজিল্যান্ডেরই স্ট্যাম্পগুলো একে একে উড়ে গেল টাইগারদের অপ্রতিরোধ্য বোলিং-এ। দাম্ভিক নিউজিল্যান্ডিয়ানরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখল শুধু। কেবল যে স্ট্যাম্পগুলো উড়ে গেল তা নয়, সিরিজ জয় এল টাইগারদের ঘরে তাও নয়, একেবারে যাকে বলে লাইফবয় সাবান দিয়ে হোয়াইট ওয়াশ করে বুঝিয়ে দিল, দাদারা আমাদেরও দিন ছিল, কেবল সময়ের অপেক্ষা এবং সেই সময়ও এমনভাবে এল যে, একেবারে চুনকাম করে পলিশ করে দিল, দাদারা ভাবতেও পারল না। এরই নাম রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এরই নাম প্রকৃতির প্রতিশোধ। মনে পড়ে ২০০১ সালের অক্টোবর নির্বাচনের পর সরকার গঠনের শপথ গ্রহণেরও অপেক্ষা করেনি। বিএনপি-জামায়াতীরা যেই দেখল জিতে গেছে অমনি ঝাঁপিয়ে পড়ল আওয়ামী লীগ নেতাকমর্ী এবং সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের জনগণের ওপর। মানুষের বাড়ি বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে লুটপাট, মারধর, হামলা-মামলা, এমনকি নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ করা শুরম্ন করল। সেই বিভীষিকাময় কালো দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও শিউরে উঠতে হয়। কে না জানে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করেও যখন দেখল দুই কন্যা বেঁচে আছেন তখন হত্যাকারীরা স্বসত্মি পেল না। ৬ বছর পর দেশে ফিরে এলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য বার বার আঘাত হেনেছে। গুলি, বোমা, এমনকি ধানম-ি ৫ নং সড়কের বাসভবনে পর্যনত্ম গুলি ছুড়েছে। তাই ১৯৯৬-২০০১-এর আওয়ামী লীগ সরকার শেখ হাসিনার জীবনের নিরাপত্তা জন্য গণভবনটি বসবাসের জন্য দেন। একই সঙ্গে শেখ রেহনাকেও ধানম-িতে একটি বাড়ি বরাদ্দ দেন। ২০০১-এর নির্বাচনে জেতার পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার জন্য বরাদ্দকৃত বাসবভন দু'টির বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। শেখ রেহানা তো তখনও বাড়িতে ওঠেনইনি। শেখ হাসিনাও সঙ্গে সঙ্গে গণভবন ছেড়ে স্বামীর বাড়ি ধানম-ি ৫ নং সড়কে চলে যান। সেদিন আমরা যারা দূর থেকে শেখ হাসিনার গণভবন ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছি অনেকের মুখেই কোন কথা ছিল না, চোখে ছিল জল। এভাবে অপমান সহ্য করে শেখ হাসিনাকেও গণভবন ছাড়তে হয়েছিল। কেউ কেউ বলছেন শেখ হাসিনা প্রতিশোধ নিচ্ছেন! না, শেখ হাসিনা নিচ্ছেন না, এ প্রকৃতির প্রতিশোধ। একজন নারী যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার বা রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী। সেই সুবাদে তাঁকে নগদ ১০ লাখ টাকা, জ্বালানি, চালকসহ গাড়ি, দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ বাবদ মাসে মাসে টাকা, অর্থাৎ সব কিছু ফ্রি করে দেয়ার পরও প্রথমে থাকার জন্য ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটি দেয়া হয় সম্ভবত ১০১ টাকার বিনিময়ে। পরে ক্যান্টনমেন্টে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার শর্তে গুলশানে এক অথবা দেড় বিঘার ওপর নির্মিত বাড়ি দেয়া হয়। এই বাড়ি বেগম জিয়ার কাছে হসত্মানত্মরের আগে রীতিমতো খোলনলচে পাল্টে সুসজ্জিত করে তবেই হসত্মানত্মর করা হয়। খাট, পালং থেকে শুরম্ন করে চা-এর চামচ পর্যনত্ম সবকিছু দিয়ে তারপর হসত্মানত্মর করা হয় এবং এতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় তা দিয়ে একটি বাড়ি বানানো যেত। কিন্তু বেগম জিয়া এবার দু'টি বাড়িই দখলে নেন। একটা কথা বলা দরকার_ শুনেছি ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটি না কি এক শত ৬৫ কাঠা অর্থাৎ সোয়া ৮ বিঘা। এদিক থেকে গুলশানের বাড়িটির বর্তমান বাজার দর ৭০/৮০ কোটি টাকা এবং ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটির দাম ৩০০-৪০০ কোটি টাকাও হতে পারে। বেগম জিয়ার দুটি বাড়ি দখলের ব্যাপারে পুরনো বহুল কথিত একটি গল্পের কথা মনে পড়ে গেল। সেকালে অর্থাৎ গত শতাব্দীর শেষার্ধ পর্যনত্ম বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু মানুষকে দেখা যেত যারা বড় কাছারিঅলা বাড়ি দেখলে (সন্ধ্যার আগে আগে) ঢুকে পড়ত এবং মুসাফির পরিচয় দিয়ে রাত্রিযাপনের ইচ্ছে প্রকাশ করত। এরা সাধারণত নোয়াখালী অঞ্চল থেকে বেশি আসত। একবার এক গেরসত্মবাড়িতে এসে একজন মুসাফির থাকার অনুমতি পেল। রাতের খাবারের সময় বাড়ির কর্তা এসে জানতে চাইলেন, আপনি পরোটা-মাংস খাবেন, না ভাত-মাছ_ কোন্টা। মুসাফির একটু ভেবে বললেন, দুইটাই, আগে পরোটা-মাংস খাব পরে ভাত-মাছ। বেগম জিয়ার জন্মও শুনেছি ঐ অঞ্চলেই এবং সেই সুবাদে তিনি গল্পটা নিশ্চয়ই শুনেছিলেন। প্রশ্ন হলো জিয়া মুক্তিযোদ্ধা (সেক্টর কমান্ডার) ছিলেন বা রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সে জন্য তাঁর বিধবা স্ত্রীকে ও এতিম সনত্মানদের থাকার জন্য বাড়ি দেয়া হলো। তাদের ভাষায় জিয়া না কি স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন, আমরা বলি এটি অর্ধসত্য, পুরো সত্য হলো জিয়া বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করেছিলেন। অর্থাৎ তিনি অন্যতম ঘোষণা পাঠক। সে যা হোক এসব অবদানের জন্য তাঁর বিধবা স্ত্রী ও সনত্মানদের এত কিছু দেয়া হলো। আমরা কি প্রশ্ন করতে পারি শেখ মুজিব ছিলেন বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সনত্মান। বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা, আমাদের সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নেতা, পথপ্রদর্শক, বাঙালীর জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির জনক ও বঙ্গবন্ধু, তাঁকে হত্যার পর পরিবারের একমাত্র জীবিত এতিম দুই কন্যার জন্য কি করা হয়েছিল? বঙ্গবন্ধুর বাড়ি দু'টিই (ধানম-ি ও টুঙ্গিপাড়া) দু'বোন জনগণের উদ্দেশ্যে দান করেছেন। তাঁরা দু' বোন বিদেশে ছিলেন বলে বেঁচে গেছেন। বরং জিয়া তাদের দেশে আসতে দেয়নি। বারে বারে শেখ হাসিনাকে হত্যা করারও ষড়যন্ত্র হয়। বঙ্গবন্ধু তো রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টও ছিলেন। সে বিষয়টিও তো বিবেচনায় আনা হয়নি। খন্দকার দেলোয়ার কিংবা মীর্জা ফখরম্নল কি বললেন না বললেন সে সব তত গুরম্নত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরম্নল ইসলাম খান (সিপিবির সভাপতি মনজুরম্নল আহসান খানের ভাই) যখন বলেন, ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটির সাথে আবেগ জড়িত আছে। এ আবেগের অর্থ আমরা বুঝতে পারলাম না। নজরম্নল ইসলাম খান যদি একটু ব্যাখা করে বলেন তাহলে ভাল হয়। যদি বলা হয় খালেদা জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসেবে বাড়ি দু'টি দেয়া হয়েছে। এখানেও প্রশ্ন, বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল দু'জনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে বাংলাদেশ আর্মির কমিশন রেঙ্ক-এ যোগ দেন এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি (তখন) কর্নেল এমএজি ওসমানীর এডিসি ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ আর্মির ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নিয়ে অসমাপ্ত শিক্ষা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানে বি.এ. অনার্স ও এম.এ. কোর্স) সমাপ্ত করেন এবং শিল্প-সংস্কৃতি-ক্রীড়া ও রাজনীতির অঙ্গনে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। আর শেখ জামালও একইভাবে বাংলাদেশ আর্মির কমিশনও প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পর ইংল্যান্ডের বিখ্যাত সেন্ডহাস্ট থেকে প্রশিক্ষণ ও কমিশন নিয়ে আর্মিতে ফিরে যান। তাঁকেও হত্যা করা হয়েছিল সস্ত্রীক। এখানে কি আবেগের জায়গা নেই। তাদের দু'বোন তো জীবিত ছিলেন। ধরে নিলাম ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও লেফ্টেন্যান্ট শেখ জামালের বিয়ে হয়েছিল এক মাস হয় এবং এরই মধ্যে তাঁদেরও হত্যা করা হয়। তবে কর্নেল তাহের, জেনারেল খালেদ মোশাররফ, জেনারেল মনজুর, কর্নেল হুদা, কর্নেল হায়দারদের হত্যার পর তাদের স্ত্রী সনত্মানরা বেঁচে আছেন। তাদের ব্যাপারে কি আবেগ কাজ করে না প্রিয় নজরম্নল ইসলাম খান ভাই? তবে হঁ্যা এবার কিন্তু ভাল ধরা খেয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ যদি হাইকোর্টের মামলাটি করত বা আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাহী আদেশে বাড়ি ছাড়তে বলতেন তাহলে বিএনপি কিছুটা হলেও রাজনৈতিক ফায়দা পেত। কিন্তু এক্ষেত্রে সে সুযোগও নেই। বেগম জিয়াই হাইকোর্টে মামলাটি করেছেন বাড়ি রক্ষার জন্য। হাইকোর্ট তার মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে এবং তাঁকে এক মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে বেগম জিয়াকে হয় হাইকোর্টের রায়ের বিরম্নদ্ধে আপীল করতে হবে আপীল বিভাগে নয়ত হাইকোর্ট তথা বিচার বিভাগের বিরম্নদ্ধে রাজপথে নামতে হবে। কিন্তু রাজপথে নামা যে সম্ভব নয় এটা বুঝতে পেরে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ডুব মেরেছেন। তাঁর কোন কথা শোনা যাচ্ছে না। না-কি আকীদা বদলানোর চেষ্টায় আছেন কে জানে? মওদুদ আহমেদের কথাইবা বলব কেন, টিএইচ খানও তেমন কোন মনত্মব্য করছেন না, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরীও কৌশল অবলম্বন করে আর্মির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তবে মাঠে নেমেছেন খালেদা জিয়ার নব্য আইন উপদেষ্টা সুপ্রীমকোর্ট বার সভাপতি এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনিও খানিক পাশ কাটিয়ে বলেছেন আদালতের বাইরে বিষয়টি মীমাংসা হতে পারে। তার বক্তব্যে আন্দোলনের ব্যাপার নেই, আছে সালিশীর ব্যাপার। আমার বোঝাটা যদি ঠিক হয় তবে তার কথার অর্থ হলো সরকারী-বিরোধী দল বসে বিষয়টি সুরাহা করতে পারে। অর্থাৎ গ্রাম্য সালিশ। যা টাউটরা পরিচালনা করে এবং কখনও কখনও পয়সার বিনিময়ে ফতোয়া দেয়, কখনও দু'পক্ষের কাছ থেকে টাকা খেয়ে বছরের পর বছর গ্রাম্য কাজিয়া জিইয়ে রাখে। খন্দকার মাহবুব সাহেব কি তাই চান? সালিশ হলে বছরের পর বছর জিইয়ে রাখার একটা সুযোগ আসবে এবং বারের সভাপতি হিসেবে তিনি ভূমিকা রাখতে পারবেন, হয়ত তিনি তাই ভাবছেন। গ্রাম্য সালিশের মতো দু'পক্ষের কাছ থেকে টাকা খাবেন, এ কথা আমি বলছি না। খন্দকার মাহবুব সাহেব আরও যে কথা বলেছেন তা হলো 'আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ সরকার আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তার এ বক্তব্য আদালত অবমাননা কি-না সে আইনজীবী হিসেবে তিনিই বলতে পারেন। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে বুঝি কোন দল বা সরকার যখন আদালতকে প্রভাবিত করতে পারে বা আদালতকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে পারে, তখন সে আদালত কি আদালত থাকে? আমরা জানি আদালত কেবল আইন বা রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী চলে, কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়, কারও ইচ্ছা-অনিচ্ছায়ও আদালত চলে না। তারপরও খন্দকার মাহবুবের মতো একজন প্রবীণ আইনজীবী কিভাবে এমন বালখিল্য কথা বলেন বুঝি না। খন্দকার মাহবুব হোসেন আরও বলেছেন, "খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ির বিষয়টি অত্যনত্ম স্পর্শকাতর। এটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি।" তাহলে বাংলাদেশের সব বাড়িই তো কারও না কারও স্মৃতিবিজড়িত। তাহলে কি তাদের সবার মৃতু্যর পর তাদের বিধবা স্ত্রী বা এতিম সনত্মানদের নামে সে সব বাড়ি লিখে দিতে হবে? তাহলে তো সরকারী কাজকর্মের জন্য আর কোন বাড়িই অবশিষ্ট থাকবে না। বরং আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারে সম্পৃক্ততা, হত্যাকারীদের দায়-মুক্তি দান ও বিদেশী দূতাবাসে বড় বড় চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা, দেশে সামরিক শাসন স্থায়ী করা, গোপন বিচারে কর্নেল তাহেরের হত্যা, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে বাংলাদেশে থাকতে দেয়া, জামায়াতের মতো ঘৃণ্য-জঘন্য যুদ্ধাপরাধী দলকে রাজনীতি করার অধিকার দান এবং সর্বোপরি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধের ধারা থেকে পাকি সামপ্রদায়িক ধারায় নিয়ে যাওয়া, এসব রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধের জন্য জিয়ার মরণোত্তর বিচার হওয়া উচিত। দেশের আজকের যে দুর্ভোগ, আশানুরূপ অগ্রগতি সাধনে ব্যর্থতা এবং সবার ওপরে একটি দেশপ্রেমিক প্রশাসন গড়ে তুলতে না পারা_ এসব কিছুর জন্য দায়ী ঐ জিয়াউর রহমান। এই ভদ্রলোকই গড়হবু রং হড় ঢ়ৎড়নষবস বলে দেশের সমাজ, রাজনীতি, প্রশাসন সর্বক্ষেত্রে ঘুষ-দুনর্ীতিকে উৎসাহিত করেছেন। এই ভদ্রলোকই মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে অর্থ, অস্ত্র, পানীয় তুলে দিয়ে (হিজবুল বাহার) ছাত্র রাজনীতিতে সুস্থ ধারার চর্চা করার পথ রম্নদ্ধ করে দিয়ে গেছেন। বস্তুত সামরিক শাসকরা এমনই হয়। আইয়ুব-ইয়াহিয়া বা জিয়া-এরশাদকে দেখেছি। কারও সাথে কারও কোন গরমিল দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পাকিপন্থী, স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদর-আলশামস বা ভাসানী ন্যাপের যে অংশটি স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখতে না পারার কারণে না ঘরকা না ঘাটকা ছিল, জিয়াকে ঘিরে তারা যে এক অশুভ রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টি করার সুযোগ পেল এবং পরবতর্ীতে জিয়া হত্যার পর আরও যারা জিয়ার সেই মিলিটারি ইমেজের চাদর জড়িয়ে খালেদা জিয়াকে ঘিরে সেই বলয় রক্ষা করছে, জিয়ার মরণোত্তর বিচার হলে তাদের সেই অশুভ বলয়ও ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে। বাংলাদেশ তার মূল ধারায় অগ্রসর হতে থাকবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এ পথেই পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, এগিয়ে চলেছেন। একজন মানুষের কত সম্পদ চাই, কত জমি চাই? তাঁকে তো গুলশানে একটা বাড়ি দেয়া হয়েছে। সেটিও ছোট নয়। তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান তো শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। মানুষের মুখে মুখে চলছে এসব মহাজনী বাণী। কারও কারও মতে হাজার কোটি টাকাও হতে পারে। স্ত্রী-সনত্মানসহ দুই ভাইয়ের লন্ডন ব্যাঙ্ককে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান অথবা চিকিৎসার জন্য থাকার ব্যাপারটা চিনত্মা করলেই তো অনুমান করা যায়। বস্তুত একটি জনগোষ্ঠী যখন মূলধারা থেকে বিচু্যত হয় তখন তার আর মূল্যবোধ বলে কিছু থাকে না। আমরা কেবল খাই খাই চাই চাই-এর বাইরে কিছু ভাবি না। মহর্ষি টলসত্ময়ের সেই বিখ্যাত ঐড় িসঁপয ষধহফ ফড়বং ধ সধহ ৎবয়ঁরৎব গল্পটির কথা মনে পড়ে গেল। এক লোক কেবল জমি চাচ্ছে। তখন তাকে একটি ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে বলা হলো, এ ঘোড়া সূর্যাসত্ম পর্যনত্ম যতখানি ভূমি অতিক্রম করতে পারবে সবটাই তোমার। কথা মতো লোকটির ঘোড়া দৌড়োতে লাগল, দৌড়োতে দৌড়োতে সূর্যাসত্মের মুহূর্তে লোকটি ঘোড়া থেকে পড়ে গেল এবং মারা গেল। এবং তখন তার প্রয়োজন পড়ল মাত্র সাড়ে তিন হাত জমিন। ঢাকা-২১ অক্টোবর, ২০১০ money launderer two brother লেখক_ ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক এক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আলাপ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরাও চাই। কিন্তু বিচারের নামে রাজনৈতিকভাবে কাউকে হয়রানি করা যাবে না।’ ১৯ মে পল্টন ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধী নয়। তবে সেই বিচারের নামে কাউকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হলে তাঁরা মেনে নেবেন না।’ খুবই ন্যায়সংগত ও যুক্তিপূর্ণ কথা। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই সব বিচার-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের মতো স্পর্শকাতর একটি বিচার-প্রক্রিয়ায় কোনো গলদ বা ফাঁকফোকর থাকা উচিত নয়। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারে বিএনপির সহযোগিতা চাইলেন, তখন দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বললেন, একদিকে সহযোগিতা চাইবেন, অন্যদিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাবেন, এ স্ববিরোধী নীতি চলতে পারে না। কেবল তিন শীর্ষস্থানীয় নেতা নন, চিহ্নিত কয়েকজন বাদে গত ১৯ মাসে বিএনপির প্রায় সব স্তরের নেতা-নেত্রীর বক্তৃতা-বিবৃতি ঘাঁটলে দেখা যাবে, সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও কেউ যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নেননি।কিন্তু ৫ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া তাঁর বক্তৃতায় সরাসরি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পরপরই প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতাবিরোধীদেরও তখনকার সরকার ক্ষমা করে দিয়েছিল। আজ প্রায় চার দশক পর স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগীদের বিচারের কথা বলে জাতিকে হানাহানির দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সরকারের দুমুখো নীতির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে (প্রথম আলো, ৬ অক্টোবর ২০১০)।’আমরা ধন্দে পড়ে যাই। এ কার কণ্ঠ শুনছি—মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি-প্রধানের কণ্ঠ, না স্বাধীনতাবিরোধী ও মৌলবাদী কোনো দলনেত্রীর?বক্তব্যটি হঠাৎ মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে, তা ভাবার কারণ নেই। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে এ পর্যন্ত যা যা ঘটেছে, সংক্ষেপে তার বিবরণও দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর কথায়, জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিধ্বনি ছিল না, ছিল জামায়াতের সুর। খালেদা জিয়ার প্রথম কথা হলো, আওয়ামী লীগ ‘প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের’ বিচার করেনি। স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগীদের বিচারের নামে এখন তারা জাতিকে হানাহানির দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। গুটিকয়েক যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলে দেশে হানাহানি দেখা দেবে না। বরং তাদের বিচার না হওয়ায় জাতিকে কলঙ্কের বোঝা বইতে হচ্ছে।তাঁর দ্বিতীয় কথা হলো, এই বিচার রুখে দিতে হবে।কী মারাত্মক কথা! বিচার সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়ার কথা নয়। বিচার রুখে দিতে হবে!বিএনপি নিজেকে মধ্যপন্থী, উদার গণতান্ত্রিক ও সাচ্চা জাতীয়তাবাদী দল বলে দাবি করে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও নাকি বিএনপি ছাড়া অন্য কারও হাতে নিরাপদ নয়। স্বাধীনতার সঙ্গে জাতীয় চেতনা, মুক্তিযুদ্ধ, জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি নিশ্চয়ই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিএনপি নেত্রী কোথায় পেলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার করলে জাতি বিভক্ত হবে? হানাহানি সৃষ্টি হবে? কোন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করায় জাতি বিভক্ত হয়েছে? গণহত্যা ও বর্বরতার দায়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত নাৎসি বাহিনীর বিচার হয়েছে। বসনিয়া ও কাম্পুচিয়ার যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার চলছে। তাতে সেসব দেশ বিভক্ত বা দুর্বল হয়নি। গ্লানি ও পাপমুক্ত হয়েছে।খালেদা জিয়া ‘প্রায় চার দশক পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্নটি যৌক্তিক, কিন্তু উদ্দেশ্য সৎ নয়। আমরাও মনে করি, মানবতা ও সভ্যতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারীদের বিচার অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এত দিনেও তাদের বিচার করতে না পারা আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা। যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার তাদের বিচার না করে ভুল করেছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই ভুল সংশোধন করল না কেন? স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপিই তো সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় ছিল। নিশ্চয়ই আবারও তারা ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখে।আমরা অতীত নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। আইন ও ন্যায়বিচারের কথা বলতে চাই। বিএনপি নেত্রীকে জিজ্ঞেস করতে চাই, স্বাধীনতার চার দশক পর যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিতে আইনগত বাধা আছে কি? নেই। তাহলে বিএনপির গা জ্বালা করার কারণটা কী? তাদের দলে কতজন যুদ্ধাপরাধী আছে? মাত্র একজনের (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) অপরাধ তদন্ত করায় খালেদা জিয়া এভাবে খেপে গেলেন কেন? না এর পেছনে আরও কারণ আছে? ৮ অক্টোবরের কাগজে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক শিল্পসচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শোয়েব আহমদ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী তাঁকে বলেছিলেন, এ বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। সরকার সব ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ (প্রথম আলো, ৮ অক্টোবর, ২০১০)।যুদ্ধাপরাধের বিচারে খালেদা জিয়া বা বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে ১০ ট্রাক অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও ভেবে দেখার বিষয়। সে দিন মতিউর রহমান নিজামী শিল্পসচিবকে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কথা বলে অভয় দিয়েছিলেন। তার বিনিময়ে আজ কি খালেদা জিয়া নিজামী সাহেবদের এই বলে অভয় দিচ্ছেন যে ‘আমরা আছি তোমার পাশে’?খালেদা জিয়া প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে সহযোগীদের বিচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে ‘প্রকৃত’ ও ‘অপ্রকৃত’ বলে কিছু নেই। যারা একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত ছিল, তারাই যুদ্ধাপরাধী। খালেদা জিয়া ‘প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী’ বলতে নিশ্চয়ই দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের বুঝিয়েছেন। আমরা তাদের বিচার করতে পারিনি, সেটি আমাদের ব্যর্থতা। তাই বলে দেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না কেন? খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের সহযোগী’ বলে তাদের অপরাধ লাঘব করতে চাইছেন। সরকার এখন ‘স্বাধীনতাবিরোধীর’ বিচার করছে না, তাদের জন্য বিশেষ আদালতও গঠন করা হয়নি। বিচার হচ্ছে একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে যারা জড়িত ছিল, তাদের। সে সময় জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী, পিডিপি, কৃষক প্রজা পার্টি এবং অন্যান্য দলের হাজার হাজার নেতা ও কর্মী স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর দালাল আইনে তাঁদের বিচার শুরু হয়েছিল। অনেকের জেল-জরিমানা হয়েছিল। অনেকে আবার ক্ষমতাসীনদের নানা রকম এনাম দিয়ে ছাড়াও পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিল, এ কথা ঠিক। সেই ক্ষমার মধ্যে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে কেন ক্ষমাপ্রাপ্তদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করল? দেশের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বানাল? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমা করে যদি সগিরা গুনাহ করে থাকে, বিএনপি করেছে কবিরাহ গুনাহ। এরপর খালেদা জিয়া যে ভয়ংকর কথাটি বলেছেন, তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের ‘বিচার রুখে দিতে হবে’। তিনি কীভাবে ভাবলেন, জনগণ তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দেবে?২০০৮ সালের নির্বাচনের কথা কি তাঁর মনে আছে? সেই নির্বাচনে তিনি দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও স্লোগান দিয়েছিলেন। ভোটাররা আমলে নেননি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা ছিল না। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ছিল। জনগণ আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এখন আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে। যেমনটি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।এ কথা ঠিক, গত ২০ মাসে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কাছে দেওয়া অনেক অঙ্গীকারই রাখতে পারেনি। সর্বত্র দলবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগবাজি চলছে। বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির উচিত এর প্রতিবাদ করা। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করছে কেন? আগে বিদেশি জুজুর ভয় দেখাত। কিন্তু যখন দেখা গেল কোনো দেশই তাদের কথা আমলে নিচ্ছে না তখন হানাহানির ভয় দেখাচ্ছে। এটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের কাজ নয়।বিএনপি চেয়ারপারসন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দেশবাসী দূরে থাক, এ কাজে তিনি দলের কর্মীদেরও পাবেন না। বিএনপিতে হাতে গোনা কয়েকজন যুদ্ধাপরাধী থাকলেও সবাই তাদের সমর্থক নয়। দলের নতুন প্রজন্মের নেতা-কর্মীরাও যুদ্ধাপরাধের বিচার চান। আমরা স্মরণ করতে পারি, ১৯৯২ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঘাতক-দালালবিরোধী আন্দোলনের শুরুতে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময় শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের খামোশ করে দিয়েছিলেন। এখনো কি জামায়াতকে রক্ষা করতে খালেদা জিয়া দলীয় কর্মীদের খামোশ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন?যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, যে দলে এখনো বহু মুক্তিযোদ্ধা আছেন, সেই দলটি যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা কীভাবে করে? তাহলে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে তো কোনো পার্থক্য থাকে না।খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করলেও রুখে দিতে বলেননি, কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচার রুখে দিতে বলেছেন। কেন রুখে দিতে হবে? তাতে জামায়াতের নেতারা, অর্থাৎ তাঁর দলের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা খুশি হবেন বলে? এ আহ্বানের একটাই উদ্দেশ্য, তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর মিশনে নেমেছেন তিন-তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালনকারী খালেদা জিয়া। কেন তাদের বাঁচাতে হবে? মনে রাখবেন, জামায়াতের মিত্রতা রক্ষার বিনিময় মূল্য অনেক বেশি। বিএনপি হঠাৎ কেন যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নিল? কার স্বার্থে? তাহলে আওয়ামী লীগের নেতারা যে অভিযোগ করে আসছিলেন সেটাই ঠিক—বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চাইছে।খালেদা জিয়া আরও বলেছেন, ‘ঐক্যবদ্ধ একটি সুন্দর দেশ ও সমাজ গড়ার জন্য জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আজ সেই মুক্তিযুদ্ধকে জাতির বিভাজনের হাতিয়ার করার অপচেষ্টা চলছে। ইতিহাসের বিকৃতিকে আমরা মেনে নিতে পারি না।’ ইতিহাসের বিকৃতি কারও কাম্য নয়। ইতিহাস নির্মাণে যাঁদের কোন ভূমিকা নেই, তাঁরাই ইতিহাস বিকৃতি করেন। এর দায় থেকে কেউ মুক্ত নন। ক্ষমতার হাত বদলের সঙ্গে সঙ্গে নাম কর্তন হয়, নাম যুক্ত হওয়ার মহড়া চলে। হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ১৫ খণ্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রকে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জিয়াউর রহমানের উদ্যোগেই এ দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। চারদলীয় জোট আমলে তৃতীয় খণ্ড থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটিই গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল কার নির্দেশে? এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানো। ২৭ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে জন্য বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি গায়েব করতে হবে কেন? আবার বর্তমান সরকার যেভাবে সবখান থেকে জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে তাও শুভবুদ্ধির পরিচয় নয়। ইতিহাসে যাঁর যেটুকু স্থান তা দিতে হবে। একাত্তরে জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল। কতিপয় রাজাকার-আলবদর ও শান্তি কমিটির সদস্য বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ঠেকাতে পারেনি। খালেদা জিয়া কিংবা তাঁর দল বিএনপিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে পারবে না। যদি গায়ের জোরে বিচার ঠেকাতে চায়, তাহলে জনগণই তাদের ঠেকিয়ে দেবে। 
 
FORMER STATE MINISTER OF HOME MR. LUTFUZZAMAN BABAR & TAREQ RAHMAN ALSO ACTIVE AGENT OF JMB HUJI & LeT IN BANGLADESH. At the age of 42 Tareq made his first significant step in politics in 2002, when ruling Bangladesh Nationalist Party was announced that he had been promoted to a senior position. Mr Rahman rapidly acquired a reputation for being a “hatchet man” for enforcing party discipline. Mr. Rahman appears to prefer working behind the scenes. His private office “Hawa Bhavan” was widely viewed by political opponent Awami League as the driver of the country’s mismanagement and corruption during 2001 to 2006 while his mother Khaleda Zia was the Prime Minister. He rarely speaks to the press, and is renowned for his reticence in the few media interviews he has given. the looters of the century and razakars Under the present care taker government on March 7, 2007, Tareq Rahman was arrested by law enforcing Joint Forces. He is charged with extortion and other corruptions. He initially denied the charges. But later the situation turned dramatically when other arrested BNP political leaders started to disclose information on Tareq Rahman’s corruption. Especially the arrest of former state minister for home affairs Lutfozzaman Babar on May 29, 2007 brought a huge downfall of Tareq’s public image. Mr. Babar provided evidence of Tareq Rahman’s corruption. But trail has not started for these charges yet. Khaleda Zia claimed in the court that her sons had not committed any crime as they did not need money. 
======================= 
10 Truck arms was smuggled by babar, saka, nizami and tareq The UN anti corruption agency declared Bangladesh “the most corrupt country in the world” 5 years in a row. In 2006 the prize passed into other hands, leaving Bangladesh in “only” third place. “Corruption is widespread, from the postman to ministers, from teachers to judges” experts note. “People constantly discuss it, politicians make promises, but no one actually believes its levels can even be reduced”. 
------------------------------------------------------------------------------------- 
If Ershad is barred from running in next election due to corruption charges, then what about Khaleda Zia and her family members. She must explain to people how her family became one of the richest families in the world from the day of broken suitcase and ragged T-Shirt. Her son Tareque Zia is well known as Mr.10%. By special blessing of Khaleda Zia , from the street Falu Mia earned more than Tk1,000 Cr. Late Abdul Mannan Bhuiyan (secretary general of bnp became the owner of private TV Channel. Vicious circle of syndicate under direct patronization of Tareque Zia plundered thousands of crores Takas from the pocket of common people by hiking the prices of all commodities. In terms of corruption, Ershad was infant compared to Khaleda Zia's family all MPs and Ministers of immediate past BNP-Jamaat govt.Most of the people in Bangladesh did not support the massive corruption done by BNP-Jamaat alliance, so people won't vote for them again. People will vote for a new govt. to punish Khaleda Zia, Tareque Zia and all other MPs and Ministers of immediate past BNP-Jamaat govt.All their properties will be seized by the newly elected govt. to form a National Trust. So, In Coming Election the Main Agenda is to defeat toxic BNP-Jamaat alliance in order to put Khaleda Zia, Tareque Zia and all other thug MPs and Ministers of erstwhile BNP-Jamaat govt. in jail for record breaking misrule and massive corruption. Ziaur Rahman rehabilitate the war criminals and murderers of father of bengali nation
 
ZIAUR RAHMAN REHABILITATE THE RAZAKARS AND 
 
BANGABANDHU MURDERERS.
.---------------------------------------------------------------- 
Ziaur Rahman, a Major in the Pakistan Army, Zia's unit (2/5 East Bengal Regiment) took control of the Kalurghat radio station in Chittagong at the onset of the Bangladesh Liberation War and on behalf of Bengali nationalist leader (Father of the Nation)Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman.made the most widely transmitted declaration of independence of Bangladesh which was the third and last in a series of such declarations. Recognized as a war hero, he was honored with the second highest national award Bir Uttom in 1972. A high-ranking accomplished officer in the Bangladesh Army, Zia was appointed chief of army staff in course of dramatic events that evolved following the assassination of Sheikh Mujibur Rahman in 1975 by a group of junior military officers and these army personnel met Ziaur Rahman at his residence to killed Sheikh Mujibur Rahman. This was followed shortly by another coup and counter-coup and ultimately led to the consolidation of power under Zia as Deputy Chief Martial Law Administrator. The counter-coup, sometimes referred to as a sepoy mutiny was organized by the socialist Colonel Abu Taher

Thursday, July 28, 2011

All death penalties by martial court after 15 August 1975 can be termed as killings: AL Leaders


Senior Awami League leader Suranjit Sengupta on Saturday said if a martial court is termed a “Kangaroo court”, then all death penalties awarded after the August 15 carnage in 1975 will be considered as killings.“Cases can be lodged for such killings in this regard,” he opined. Suranjit, chairman of the parliamentary standing committee on law, justice and parliamentary affairs ministry, made the observations in reply to the recent remarks of BNP Standing Committee Member Moudud Ahmed. Terming the martial court a “kangaroo court”, former law minister Moudud on Friday said the clemency granted to Jhintu by former president Iajuddin Ahmed was a case in the marital court. Suranjit was addressing a discussion meeting organised by Bangabandhu and Jatiya Char Neta Parishad at Dhaka Reporters’ Unity (DRU) in the city marking the 86th birth anniversary of the first prime minister of Bangladesh Tajuddin Ahmed. “Moudud Ahmed admitted that the marital court was the kangaroo court. If the capital punishment awarded to Jhintu by the kangaroo court is illegal, then all the executions by the martial court after 1975 will be illegal. All these will be considered as killings and cases can be filed in this connection,” Suranjit said. “If the words of Moudud Ahmed are right, the martial law should be termed ‘the jungle law’ and those who ruled the country after 1975 like the regimes of Zia, Sayem and Satter as well as all the martial rulers were illegal and their tenures were also illegal. The Fifth Amendment was illegal.
The minister-ship of Moudud also was illegal,” he added. The AL leader criticised Moudud for his comments that clemency awarded to Jhintu and AHM Biplob was different. “Biplob surrendered to the court showing his respect to the law. But Jhintu remained absconding for 22 years,” Suranjit added. State minister for law Qamrul Islam has alleged that senior BNP leader Moudud Ahmed was the man who had implicated A H M Biplob in the murder case. On Saturday Qamrul said, "After Nurul Islam killing in 2000, former president of the Laxmipur Lawyers' Association, Tarek Uddin Mahmud Chowdhury, filed the first case as a plaintiff mentioning none as accused. But following a petition by Moudud Ahmed subsequently, 10 more people including Taher, his wife and three sons, were made accused." "Later, another 24 persons were made accused. Moudud had exercised his influenced in the case as the then law minister." As a result, this verdict came, he said, adding that "all judgements are not real judgements"

Thursday, July 21, 2011

দি কনসার্ট ফর বাংলাদেশ 1971



দি কনসার্ট ফর বাংলাদেশ =================== আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়ছি আর সেই সব ভিনদেশী মানুষ গুলো আমাদের জন্য চেষ্টা করছে তাও আবার যে দেশটি চায় না স্বাধীন হোক এই দেশটা,সেই মাটিতেই! যে সময় জেনেছি এই ব্যাপারটি তখন থেকেই আমার এই মনের ভেতর যেন আজীবনের জন্য গেথে গিয়েছে কিছু নাম। সবসময়ের শ্রদ্ধা আর ভালবাসা থাকবে এই সব গুনী মানুষদের জন্য,যাদের প্রান কেদেছিল এই আমার মাটি আর মানুষের জন্য ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামকালীন সময়ে। প্রায় চল্লিশ হাজার দর্শক এর সামনে নিউইয়র্ক এর সেই বিখ্যাত মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনের মায়াভরা জায়গাটায় সবাই যেন এক হয়ে গিয়েছিল আমাদের এই বাংলাদেশ নামক একটি ছোট্র দেশের বিপদের সময়টায়। কেন জানি বিশ্বাস হয় সেই সময়ের কনসার্টে যারাই দর্শক হিসেবে অংশ নিয়েছিল তারা সবাই ই আমাদের দেশের শুভ কামনার জন্যই জড়ো হয়েছিল। এ স্মৃতি কি কখনো মুছে ফেলা যায়! এ যে কখনো হারাবারও নয়! ৭১এর সেই বিপর্যয়ের সময়ে ফান্ড সংগ্রহ করার জন্য কনসার্ট। আর এর জন্য একা জর্জ হ্যারিসনই তার প্রিয় ব্যান্ডের প্লাটফর্ম এ না গেয়ে প্রতিবাদি হয়ে বাংলাদেশের অসহায় মানুষের পাশে এসে দাড়ান সংগীতের মাধ্যমে। সময়টা ছিল আগষ্ট এর ১ তারিখ,১৯৭১ সাল। প্রথম শুরু করেছিলেন পন্ডিত রবি শঙ্কর এর সেতার সাথে ওস্তাদ আলী আকবর খানের সরোদ দিয়ে সে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয়া কনসার্ট – দি কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। আর তো ছিলেন’ই সে কালজয়ী তবলা বাদক ওস্তাদ আল্লারাখা এবং তাম্বুরায় কমলা চক্রবর্তী। পরে একে একে সবাই পারফর্ম করেন স্টেজে।সেই কনসার্ট থেকে অর্জিত সব অর্থ পরে ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশের যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্থ শিশুদের সহায়তার কাজে ব্যয় করা হয়। আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো এই অসাধারন একটি জ্বলন্ত ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকা এই ডকুমেন্টসটি।

Thursday, July 7, 2011

বাঙ্গালীদের ভুলো মন তাই অতি সহজেই অতীতকে ভুলে যায়।


২১ আগষ্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার নীল নক্সা অনুযায়ী
গ্রেনেড হামলা করা হয় এই জনসভায়।

পুলিশ কর্তৃক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন প্রথা জিয়া ও এরশাদের আমল থেকেই চালু হয়েছে এবং সর্বশেষ আমাদের ঘসেটি বেগম পুনঃ চালু করে গেলেন এইতো মাত্র দুই হাজার এক থেকে দুই হাজার সাত পর্যন্ত। এখন এটা বাঙ্গালী সংস্কৃতিও বলতে পারেন। জামাত বি এন পি কর্তৃক সৃষ্ট প্রথা সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম, যেটা ইচ্ছে করলেই যদি তুলে দেয়া না যায়। তাহলে পুলিশ কর্তৃক নেতার বস্ত্রহরণ প্রথা কিভাবে আওয়ামী লীগ প্রত্যাহার করবে? কারন পুলিশ না হয় ধরে নিলাম খারাপ। কিন্তু জয়নাল ফারুকের মতো একটা দাগী ক্রিমিনাল সন্ত্রাসী যদি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সাথে সন্ত্রাসী সূলভ আচরণ করেন? তাহলে বন্ধুকধারী পুলিশ তাকে স্যার স্যার বলে মাথা নত করে থাকবে, সেটাই কি আপনারা কিভাবে আশা করছেন? আপনারা ভুলে গেলেন এইতো গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নাসির উদ্দিন পিন্টু ডেপুটি জেলারকে উত্তম মাধ্যম দিলেন? এপ্রথা বিএনপি'র সৃষ্ট। কই, আওয়ামী লীগের কোনো নেতা নেত্রী এমন ঘটনাতো ঘটিয়েছে বলে শুনিনি? বরং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ নাসিমকে কোহিনুর যে ভাবেবিনা দোষে পিটিয়ে ধুলায়ে লুন্ঠিত করেছিলো, তখন আপনাদের নীতি বাক্যগুলো শুন্তে পাইনি। কারন তখন ফেসবুক এতো জনপ্রিয় ছিলোনা। আইন শৃঙ্খলা এবং প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তারক্ষীদের উপর সেমিনার করে তাদের আচরণ বিধি মনে করিয়ে দিতে হবে। মেনে নিলাম, তারা জ্ঞান

সাধন করে চরিত্র বদল করে ফেলল । কিন্তু আপনার সন্ত্রাসী জয়নালদের চরিত্র বদলের জন্য কি করবেন? পিন্টুদের কি করবেন? বাবর সাকাদের কি করবেন>? অন্যথায় আপনাকে এই পুলিশ কর্তৃক নেতার বস্ত্রহরণ প্রসঙ্গে আরো বাস্তবমূখী হতে হবে। এখন আর সে যুগ নেই, যে যুগে পুলিশ দেখলে মানুষ গ্রাম ছাড়া হয়ে যেতো এবং পুলিশো সৎ ও নিষ্টাবান নেই যে শিক্ষিত নেতা নেত্রী এম পি মিনিষ্টারদের অত্যাচারের পরেও হুজুর হুজুর বলে তেল মালিশ করবে। আমরা মুলতঃ পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকি। ২০০১ ২০০৭ এর কালো দাগ আমার চেহারায় এখনো স্পষ্ট বিদ্যমান। আমার মাথার চুলগুলো ডান হাতের গোড়ার প্রচন্ড ব্যথা, তিনটি ভূয়া মামলা, সব ই কি ভুলে যাওয়া সম্ভব? হাওয়া ভবনের গড ফাদারদের নির্মম নিষ্টুর আচরণ, নির্যাতন লুন্ঠন, ধর্ষণ, খুন, চাঁদাবাজি, বিদেশী ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পাচার, জননেত্রীশেখ হাসিনাকে হত্যার নীল নক্সা? আইভি রহমানের অপমৃত্যু?আওয়ামী লীগের ব্যাংক ভোটার বলে কথিত হিন্দু ও নৌকায় ভোটদানকারী ১০ লক্ষ সংক্যালঘুদের গৃহছাড়া করা? ১০ হাজার হিন্দু যুবতী মেয়েকে গণ ধর্ষণ করা? এতো কিছু জাতি কি করে মাত্র ২ ৩ বছরের ব্যবধানে ভুলে যায়?  

Monday, July 4, 2011

21 August Grenade Attack to Sheikh Hasina: Wanted Tareq Rahman


গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

২০০৪, ২১ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক রক্তাক্ত দিন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে নৃশংসভাবে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা চালানো হলো। আল্লাহর অশেষ রহমতে ব্যর্থ হলো প্রাসাদ ষড়যন্ত্র। অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন শেখ হাসিনা। সাত বছর পর গতকাল রোববার আদালতে অভিযুক্ত ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। ২০০৮ সালের ১১ জুন মামলার প্রথম চার্জশিটে আসামি ছিলেন ২২ জন। এ নিয়ে গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি হলেন ৫২ জন। চার্জশিটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় রয়েছেন শীর্ষ পর্যায়ের সাবেক চার সেনা কর্মকর্তা ও পুলিশের তিন সাবেক আইজি। তালিকায় রয়েছেন ভারতীয় দুই জঙ্গি। গতকাল রাতেই তারেক রহমানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের মধ্যে ২৫ জন কারাবন্দি। সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ১৮ জন পলাতক। ১১ জন কারাবন্দি। জামিনে আছেন ঢাকা সিটির ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার বিএনপি নেতা আরিফুর রহমান। 
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবল্পুব্দ এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন প্রাণ হারান। আহত হন পাঁচ শতাধিক। চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যান। ঘটনার পর মতিঝিল থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মূল কুশীলবদের বাঁচানোর জন্য বিগত চারদলীয় জোট সরকার গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জমজমাট জজ মিয়া নাটক সাজায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ওয়ান-ইলেভেনের পর ফের মামলার তদন্ত শুরু হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির এএসপি ফজলুল কবীর। ঘটনার ৪৬ মাস পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডি অভিযোগপত্র দাখিল করে। ওই অভিযোগপত্রে মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। গ্রেনেডের উৎস ও মদদদাতাদের শনাক্তের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আদালত মামলার বর্ধিত তদন্তের আদেশ দেন। ২০০৯ সালের ১৩ আগস্ট তদন্ত শুরু করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দ। গতকাল সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভয়ঙ্কর গ্রেনেড হামলার তদন্ত শেষ হলো।

আদালতে সম্পূরক চার্জশিট : গতকাল দুপুর সোয়া ২টায় দুটি ট্রাঙ্কে করে অভিযোগপত্র ঢাকার আদালতে নিয়ে যান পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক সামিউল বাসিত। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের বিক্ষোভের মধ্যেই চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ কমিশনার আবদুল কাহ্হার আকন্দ স্বাক্ষরিত চার্জশিট ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে দাখিল করা হয়। গ্রেনেড হামলার সাত বছর ও বর্ধিত তদন্তের আদেশের প্রায় দুই বছর পর এ সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিট দাখিল উপলক্ষে গতকাল আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগপত্রের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তারেক রহমান হামলার পরিকল্পনা ও আসামিদের পালিয়ে যেতে প্রশাসনিকভাবে সহায়তা করেছেন। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেনেড হামলার উৎস, সরবরাহ ও মদদদাতা হিসেবে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তাদের আসামি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে জানা যাবে, কীভাবে তারা হামলার পরিকল্পনা ও সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এ গ্রেনেড হামলা করেছিল। হামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহত হলে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতায় থাকা নিরঙ্কুশ হতো। তাদের কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকত না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার জন্য কাউকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। বর্ধিত তদন্তে নতুন করে ৮৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। প্রথম চার্জশিটে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, আবদুর রাজ্জাক, আমির হোসেন আমুসহ ৪০৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল। আলামত জব্দ দেখানো হয়েছিল ৬৯ ধরনের।

এদিকে হানিফ পরিবহনের মালিক মোঃ হানিফের চার্জশিটভুক্তির বিষয়ে সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় যে ষড়যন্ত্র বৈঠক হয়, সে বৈঠকে হানিফ উপস্থিত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। একই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুর রহমান। মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক ও লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার গ্রেনেড সরবরাহকারী হুজি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিনকে ভিন্ন নামে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। এমনকি গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার কথাও তারা জানতেন। 
পুলিশের সাবেক তিন আইজিসহ যে আট কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সময় পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও গ্রেনেড হামলার বিষয়টিকে তারা গুরুত্বসহকারে নেননি। এমনকি ঘটনার এক বছর পর মুফতি হান্নান র্যা বের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর গ্রেনেড হামলার বিষয়ে তার কাছ থেকে কোনো তথ্য আদায়ে তৎপর ছিলেন না এসব পুলিশ কর্মকর্তা।
সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, চার্জশিটের আসামি হওয়ায় তিনি হতবাক। তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে। তিনি বাসায় রয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। আজ সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তিনি।

সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সময় আশরাফুল হুদা বিদেশে থাকলেও দেশে ফেরার পর গ্রেনেড হামলার ঘটনা তদন্তে কোনো উদ্যোগ নেননি। দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে ওই সময় মামলাটির অগ্রগতির বিষয়ে দেখভাল করেননি।
আইনজীবীদের পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল : সম্পূরক চার্জশিটে লুৎফুজ্জামান বাবর, তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ 'মূল হোতাদের' নাম থাকায় আদালত অঙ্গনে আনন্দ মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের চার্জশিটভুক্ত করার প্রতিবাদে একই সময় মিছিল করেছেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। 
আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরুর নেতৃত্বে দুই শতাধিক আইনজীবী সিএমএম কোর্ট এলাকা থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি আইনজীবী সমিতি এলাকা হয়ে সিএমএম কোর্ট ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল থেকে আইনজীবীরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অন্যদিকে একই সময় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়ার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি আদালত চত্বর থেকে রাস্তায় যেতে চাইলে সিএমএম কোর্টের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় আইনজীবী নেতারা বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে।
সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত ৩০ আসামি (আসামির ক্রম অনুযায়ী) : সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হুসাইন কায়কোবাদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, বিএনপির ঢাকা মহানগর শাখার নেতা ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুর রহমান, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির (আইডিপি) আহ্বায়ক মাওলানা আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে গোলাম মোস্তফা, হুজি নেতা মাওলানা আবদুর রউফ, হুজির নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হান্নান ওরফে সাবি্বর, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, বিএনপি নেতা আবদুল সালাম পিন্টুর ছোট ভাই রাতুল আহমদ বাবু ওরফে বাবুল, ডিএমপির তৎকালীন ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, ডিআইজি সাঈদ হাসান খান (ঘটনার সময় ডিএমপির দক্ষিণ বিভাগের ডিসি), সাবেক আইজিপি মোঃ আশরাফুল হুদা (ঘটনার সময় ডিএমপি কমিশনার), সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সিআইডির সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সিআইডির সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক আইজিপি খোদা বখস্ চৌধুরী (ঘটনার সময় সিআইডির প্রধান), খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার ও মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন। 

গ্রেফতার ১১ জন : সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত ১১ জন কারাবন্দি। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির (আইডিপি) আহ্বায়ক মাওলানা আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে গোলাম মোস্তফা, হুজি নেতা মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হুজির নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হান্নান ওরফে সাবি্বর ও খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক।
যে ১৮ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হুসাইন কায়কোবাদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার (বরখাস্ত), মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, হুজি নেতা হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, বিএনপি নেতা আবদুল সালাম পিন্টুর ছোট ভাই রাতুল আহমদ বাবু ওরফে বাবুল, সাবেক আজিপি শহুদুল হক, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি খোদা বখস্, ডিএমপির তৎকালীন ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, ডিআইজি সাঈদ হাসান খান, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও সিআইডির সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ।
প্রথম চার্জশিট ও বিচার : দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনার ৪৬ মাস পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির ২২ জনকে আসামি করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুই মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। মামলা দুটি একই বছর দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ২১ আগস্টের ঘটনায় বিস্ফোরক মামলার বিচার চলছে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হকের আদালতে। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চেমন চৌধুরীর আদালতে চলছে হত্যা মামলার বিচার। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। আদেশে নেপথ্য মদদদাতা ও গ্রেনেডের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলা হয়। এরপর সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দ মামলাটির অধিকতর তদন্ত শুরু করেন। অধিকতর তদন্তের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য ১৩ দফা সময় বাড়িয়েছেন আদালত।
যারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন : বর্ধিত তদন্তকালে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন মাওলানা আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ও মামলার প্রথম চার্জশিটভুক্ত আসামি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও আবু জান্দাল।

তাজউদ্দিনকে বিদেশে পাঠানো হয় : ২০০৫ সালের অক্টোবরে মুফতি হান্নানকে গ্রেফতারের পর জানাজানি হয়, গ্রেনেড সরবরাহে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন। এ কারণেই মাওলানা তাজউদ্দিনকে 'মোঃ বাদল' নামে রাজশাহীর ঠিকানায় একটি পাসপোর্ট করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ভয় নেই : হুজির সামরিক কমান্ডার আফগান যোদ্ধা মাওলানা আবদুর রউফ তার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর ও উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সহায়তায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি)। সাবেক এ দুই মন্ত্রীর মাধ্যমে এ জঙ্গি সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করত হাওয়া ভবন। এ ছাড়া মুফতি হান্নান তাকে জানিয়েছিলেন, 'আমাদের সঙ্গে মন্ত্রী ও হাওয়া ভবন আছে। আমাদের ভয় নেই।'

সাক্ষী হিসেবে যারা জবানবন্দি দিয়েছেন : লে. কমান্ডার (অব.) মিজানুর রহমান, লে. কর্নেল (অব.) আফজাল নাছির ভূঁইয়া, মেজর জেনারেল (অব.) সাদেক হাসান রুমী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মেজর (বরখাস্ত) মনিরুল ইসলাম, র্যা বের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর আতিকুর রহমান, সিআইডির সাবেক প্রধান ফররুখ আহমেদ, ডিএমপির পূর্ব বিভাগের তৎকালীন এডিসি মোস্তফা কামাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি আনোয়ারুল ইকবাল, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, ডিএমপির সাবেক কমিশনার মিজানুর রহমান, সিআইডির ডিআইজি শামছুল হক, সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম, বেসরকারি সংস্থা আল-মারকাজুল ইসলামীর ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি আবদুর রশিদ, ভারতীয় জঙ্গি মাজেদ ভাটের স্ত্রী মনোয়ারা সুলতানা, শাশুড়ি নাহিদ লায়লা প্রমুখ।
প্রথম চার্জশিটে আসামি যারা : প্রথম চার্জশিটভুক্ত ২২ আসামির মধ্যে ১৪ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান, তার ভাই মফিজুর রহমান ওরফে অভি, আবুল কালাম আজাদ, শরিফ শহিদুল ইসলাম ওরফে বিপুল, মাওলানা আবু সাই ওরফে ডা. আবু জাফর, জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ ওরফে তামীম, মুফতি মইন উদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, রফিকুল ইসলাম গাজী ওরফে সবুজ, উজ্জ্বল ওরফে রতন ও শাহদাত উল্লাহ জুয়েল।
প্রথম চার্জশিটে পলাতক ছয় আসামি : গ্রেনেড সরবরাহকারী মাওলানা তাজউদ্দিন (টাঙ্গাইল), মোঃ ইকবাল (ঝিনাইদহ), মাওলানা আবু বকর (বরিশাল), মোঃ খলিলুর রহমান (মাগুরা), জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর (দোহার, ঢাকা) ও মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার (গোপালগঞ্জ)। এ ছাড়া দুই আসামি দুই যমজ ভাই ভারতের দিলি্লর তিহার জেলে আটক আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মোত্তাকিন (ফরিদপুর)।

Tuesday, May 24, 2011

Amra Mujib Shena

I treat myself as a secular person and agree with some comments regarding the present amendment of our constitution in the view of secularism but we should take in account that after killing Bangabandhu in 1975, last 35 years a lot changes has taken place in socio-political structure in our country. Under the shadow and support of BNP, today so called Islamic fundamentalists became a devil forces in our country, really it is very dangerous. We progressive, secular and democratic forces should realize the reality and should recognize we unable to protect them. The decision what may be taken by honorable Netri and AL leadership totally perfect for the time being . Step by step we should change it.
It is not good to claim Sheikh Hasina for every thing. We, the supporters and followers of secularism unable and still unable to protect the so called Islamic fundamentalists. We should realize that we are first of all fighting for the existence of secular forces but not only secularism. If today we want to establish the constitution of 72, we should be prepared to take part in a civil war , take arms in hand and kick out from the country the fundamentalist forces. Now the question, how fur our people is prepared to accept it? I can be a very happy man to be a citizen of Bangladesh ruled by the constitution of 72 without having any post in party or government but as per my calculation in the present time it is not possible. I request my friends from secular forces, please calculate the present socio-political structure of our country, then blame honorable Netri Sheikh Hasina and AL leadership. Joy Bangla, Joy Bangabandhu. 
Dr. Shafiqul Islam, Moscow Awami League, Russia

Sunday, May 15, 2011

Freedom and the Fighters


দূরের এবং কাছের, দেশে এবং দেশের বাইরের সকল বাংলা ভাষাভাষী ভাই বোনদের জানাই মুজিবীয় সুভেচ্ছা এবং  সকল শহীদদের প্রতি জ্ঞাপন করছি গভীর শ্রদ্ধা স্বরন করছি অকুন্ঠ শ্রদ্ধাভরে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদদের । যে একবার যায় সে আর ফিরে না, এইতো বিধির অমোঘ নিয়ম। বাঙ্গালী জাতি যে সোনার মানুষটিকে হারিয়েছে এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট গুটিকয়েক বন্দুকধারী বিপথগামী কুজন্মা কুলাঙ্গার এই বিশ্বকাপানো বিশ্বনেতাকে রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মত স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সবুজের পতাকায় আবার চন্দ্রবিন্দু (চাঁদ তারা) বসানোর হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিলো। ওরা এখনো গোটা দেশের অভ্যন্তরে গ্রামে গঞ্জে আস্তানা গেড়ে আছে ধর্মের নামে, ইসলামের নামে, ধর্মীয় শিক্ষার নামে এবং ওদেরকে যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আর্থিক সহায়তাসহ সার্বিক পরিচালনা করছে, তাদের কেউ না কেউ, কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের ভিতরেও প্রবেশ করতে পেরেছে।

বড় বড় জাঁদরেল নেতানেত্রীগণ প্রায়শই মধ্যশ্রেণীর নেতাক্রমীদের উদ্দেশ্য করে ঔক্যমতের কথা বলে থাকেন। ধৈর্য ও শান্তির কথা বলে থাকেন। খুবই ভালো, মিষ্টি কথার বৃষ্টি গুলো ভাসিয়ে নিলো কষ্টগুলো। সৌন্দর্যময় শান্তির বাণী ।  শুনতেও ভালো লাগে যে, আমাদের নেতানেত্রীগণ অন্ততঃ নিজেরা পালন না করলেও দেশের উদ্দেশ্যে, দেশের শিক্ষিত অর্ধ শিক্ষিত মূর্খ বোকা হয়তো বা গণ্ডমূর্খ নিরীহ মানুষের উদ্দেশ্যে নেতাগণ অনলবর্ষী বক্তব্য রেখে জাতিকে সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছেন। গণ্ডমূর্খ এই জাতি পেটে ভাত নেই অথচ বাহ বাহ দিচ্ছে আর বলছেঃ ওহ নেতা যা বললেন। একেবারে আমিনী নিজামী সাকা চৌ রা কুপোকাত।  আসলেই কী আমিনী সাকা নিজামীরা ঐ অনলবর্ষণে কুপোকাত হচ্ছেন? ধরে নেয়া যাক, ওরা কিছুটা হলেও ঘায়েল হয়েছে। আওয়ামী লীগের জনগণের উপর যে অন্ধ একটি ভালোবাসার দাবী বা বিশ্বাস সেটা কি আওয়ামী লীগ ধরে রাখতে চেষ্টা করেছে অথবা এখনো সে অবস্থা বিরাজমান রয়েছে বলে আওয়ামী নীতি নিরধারকগণ মনে করেন? আমি জাতিরজনকের স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়ণের ক্ষেত্রে ঠিক বঙ্গবন্ধুর মতো একই উদার নীতির বিপক্ষে কিছু কথা বলার জন্যই এ লেখা শুরু করেছি। হয়তো বুঝিনা, অথবা না বুঝেই পোদ্দারপট্টির অথর্ব প্রফুল্ল পোদ্দারের মতো দোকানে কোনো কাষ্টমার না থাকলে যেমন বিড় বিড় করত, ঠিক তেমনি কিছুক্ষণ বিড় বিড় করে ঘুমিয়ে পরবো । আমরা হচ্ছি ছাগলের তিন নম্বর। বাচ্ছা শব্দটি আর লিখলাম না। কারণ নেতানেত্রীগণ আমাদের যতোই বাচ্ছা বলে এড়িয়ে যাকনা কেনো আমরা আর বাচ্ছা নই, শুধু তাই নয়, আমাদের বাচ্ছারাও এখন মূখ ফুটে তাদের মনের কথা বলতে শিখেছে। আমাদের আগামী প্রজন্ম আমাদের পূর্বসূরিদের চেয়ে অনেক সতর্ক ও স্বচেতন ।জাতিরজনকের ঔদার্য মহানুভবতা এবং অতি কোমল সহজ সরল মন মানসিকতাই তাঁর জীবনের এবং পরিবারের কাল হয়ে পৃথিবী থেকে তাঁকে অকালে সরিয়ে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সবুজ বিপ্লব বাস্তবায়ণ হলে আজ এ দেশ এবং এ দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠকামো হতো দখিন এশিয়ার মধ্যে সব চেয়ে উন্নত । বঙ্গবন্ধু দেশ জাতি এবং শোষিত জনগোষ্ঠীর কথা ভাববার অবসরে কখনো নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা, সন্তান সন্ততির ভবিষ্যতের কথা ভাববার অবকাশ পাননি অথবা ভাবেননি। ভেবেছেন এইতো জীবন যেমন চলছে সাদা মাটা নিত্য নৈমিত্তিক অন্য আর দশজনের মতোই।  
With Kalkini Thana FF Commander Mojibur Rahman
জননেত্রী শেখ হাসিনা জানেন যে তাঁর শত্রু জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর চেয়েও ভয়ানক, হিংস্র এবং শক্তিশালী। যেমন ২১ অগাস্টই তার জলন্ত প্রমান । একথা নেত্রী তাঁর বক্তব্যে অনেক মঞ্চেই উল্লেখ্য করেছেন। তারপরেও কোনো একটি আশঙ্কা আমাদের নাড়া দেয়। কি জানি কি হয়, যদি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঢিল পড়ে যায়?  

The Pakistani ruling clique and their vested interest froup began to treat Bangladesh which was then East Pakistan as a colony of west Pakistan. Therefore, under the leadership of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman a violent mass movement was launched which resulted in a landslide victory of the Awami League at the election of the National Assembly of Pakistan in December 1970. 

Thus Bangbandhu acquired the right to from the Government of Pakistan with his absolute majority in the Parliament. But under cover of negotiation with the Awami league leader President Yahia Khan hatched a conspiracy. On the fateful night of March 25, 1971, Bangabondhu was taken a prisoner to west Pakistan. They also attacked the Police force, The EPR and the Bengal Regiment who resisted them tooth and nail. The Pak army continued to kill people. Torture women, burn houses loot property and damage crops. One crore of people fled away and took shelter in neighbouring India. Meanwhile East Pakistam Was declared independent Bangladesh. A new government was formed at Mujibnagar. The Mukti Bahini was organized and trained. They began to hit back the Pakistani hordes. In fact, everyone in Bangladesh was a freeom-foghter and did his best to help the Mukti Bahini. While the Mukti Bahini gained in strength and efficency and kept the occupation army in utter embarrassment, the Pakistani forces attacked India because of her support on the Bangladesh issue. 

Eventually the Mukti Bahini and the Indian forces formed a Joint command and inflicted crushing blows on the enemy in every sector compelling them to surrender. On the 16th of December, 1971 the Pakistani soldiers surrendered their arms to the Joint Command at a ceremony in Dhaka. Thus after long nine months of massacre the war of Liberation came to an end Bangladesh won freedom. Now the 16th of December is observed as the Victory Day.
Freedom Fighters:
Sector Commander No.7 Kazi Nuruzzaman No MORE!
Freedom is the birthright of man, but sometimes this right is denied to a nation by foreign rulers. As a result, armed conflict takes places between and if freedom-loving people and the occupation forces. Sometimes the war continues for years and if the people are united and determined then the freedom fighters win and the country achieves independence. The people of Bangladesh fought a glorious war of independence against the Pakistani occupation forces in 1971. 

In this Great War the Bangali members of the armed forces the students and the people from all walks of life took part. They fought for long nine months and defeated the well-trained Pakistani forces. Bangladesh became a free country. The people who fought against the Pakistani army and the people who took part in the war effort are called the freedom fighters. Many of the freedom fighters sacrificed their lives for the cause of the motherland. We owe our freedom of these noble freedom sacrificed their lives for the cause of the motherland. We owe our freedom of these noble freedom fighters. The freedom fighters will remain immortal 
in the history of Bangladesh.